” যোগ্যতা”
———————————————————-
পীযূষ কান্তি দাস
———————————————————-
এই ছোঁড়া তুই এদিকে আয় কেন ওদিক যাস ,
ঘুরলি তো রে দশটি বছর মিটলোনা তাও আশ !
লাভ কিছু নাই পার্টি করে বুঝবি দুদিন পরে ,
এইবেলা তাই ঘরের ছেলে যা ফিরে যা ঘরে ।
ওদের পিছে ঘুরে ঘুরে করলে বয়স পার ,
আমার মতো কাঁদতে হবে জীবনটা ছারখার ।
তোর মতো হায় ঘুরেছিলাম আমিও আট সাল ,
শুনিনি তো কারুর মানা বাপের যতো গাল ।
বুড়োবাপে খেটেছিলো মুখে তুলে রক্ত ,
আমি নাকি কাজের ছেলে পার্টির বড়ো ভক্ত ॥

অনেক কষ্টে করেছিলাম এম .এ .টুকুন পাশ,
“চাকরী পাবি” পার্টির দাদাও দিয়ে ছিলো আশ ।
পার্টির জন্য ঝরিয়েছিলাম কতো রক্ত- ঘাম ,
কাজ ফুরাতে হলাম পাজি নাই কোন তার দাম ।
দুইটি বিঘে জমিন বেচে দিলাম আট লাখ টাকা ,
আরও দুলাখ দিতে গিয়ে মায়ের গয়না ফাঁকা ।
গিয়ে গিয়ে ছিঁড়লো জুতা জোটেনি তাও কাজ ,
পরের জমির দিনমজুরী তাইতো করি আজ ।
তখন থেকেই বুঝে গেছি হলো মোহভঙ্গ ,
সবচে’ বড়ো আজবদেশ ভাই আমাদের এই বঙ্গ ।
যতোই তুমি পাশ কেন দাও লাখ যোগ্যতা থাক ,
সেসব ভাই ওই শিকের পরে সবাই তুলে রাখ ।
ভাগ্না -ভাগ্নি হতে হবে নিদেন বউয়ের ভাই ,
নইলে জানিস কপালে তোর চাকরীটা তো নাই ॥

“নীরব ব্যথা ” পীযূষ কান্তি দাস – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – যখন তুমি নৌকোতে পাল তুলে দাও যে পাড়ি নতুন কোনো দেশে , দুচোখ আমার হয় যে অশ্রুনদী দলা পাকায় কষ্টগুলো এসে ॥ আলোর ছটায় যাও যে তুমি ভেসে আমার জীবন আঁধার দিয়ে ঘেরা , কান্না চেপে হাসতে থাকি আমি সেই অভিনয় নয় কী সবার সেরা ? ব্যস্ত তুমি লক্ষ লোকের ভীড়ে বলছো কথা সবার সাথে হেসে , একলা আমি নদীর কূলে বসে ব্যথার তরী যায় যে আমার ভেসে ॥ কপালজুড়ে তোমার বিজয়টিকা খুশির ছোঁয়া তোমার চোখেমুখে, জানি এখন ভালোই আছো তুমি তোমার সুখেই তৃপ্তি আমার বুকে ॥

“পরানপাখি” – – – – – – – – – — – – – – – — – – – – – – – পীযূষ কান্তি দাস – – – – – – – – – – – – – – – – – – — – – – – – হাজার মুখের মাঝে আমি খুঁজি একটি মুখ , যার পরশে তৃপ্তি পেতাম জুড়িয়ে যেতো বুক । হাজার কণ্ঠস্বরের মাঝে তার স্বরটাই খুঁজি, হারিয়েছি তায় অবহেলায় ফিরলো না তাই বুঝি । তার মতো আর ভালোবাসা পেলাম না তো ভাই হু হু করে বুকের মাঝে নাই সে কাছে নাই। এসো এসো ফিরে প্রিয়া আবার আমার কাছে, তবেই যদি জুড়ায় এ মন পরান আবার বাঁচে । রূপের কথা তুলবো না আর ফর্সা কিংবা কালো যেমন ছিলে তুমি আমার সেটাই ছিলে ভালো। চাইনে আমি উর্বশী বা কোনো তিলোত্তমা ? তুমিই আমার পরানপাখি আমার প্রিয়তমা ॥

“ইচ্ছে ”
———————————————————-
পীযূষ কান্তি দাস
———————————————————-
যাচ্ছি পথে উদাস মনে হঠাত্ ডাক
চমকে ঘুরি পেছন পানে কোথায় কে ,
জানতো যেজন বলেছিলো,” গোপন থাক ”
তবে আমায় এ নাম ধরে কে ডাকে  ?

ডাকার লোককে হারিয়েছি বিশটি সাল
পাগলসম ঘুরছি কেবল দিক-বিদিক ,
খোলেনি তো এ যে ভীষণ উর্ণাজাল
বুঝিনি হায় আজও কে ভুল কে যে ঠিক ॥

জীবনটা আজ ছন্নছাড়া কার দোষে
একটুখানি দেয়ওনি কেউ সান্ত্বনা ,
সন্ধ্যেবেলাই ‘ছাই -পাঁশ’ নিয়ে যাই বসে
বোঝেনা কেউ কি যে আমার যন্ত্রণা ॥

দিনে দিনে ফুরোচ্ছে দিন বুঝছি বেশ
যন্ত্রণা হয় বুকে -পেটে এখন খুব ,
হাসির মাঝেই লুকাই আমি কাঁদার রেশ
ইচ্ছে জাগে হঠাত্ করে দিই তো ডুব ॥

“সম্প্রীতি ”
——————————————————-
পীযূষ কান্তি দাস
——————————————————-
হিন্দুদের আজ রথের মেলা
মুসলিমদের কাল ঈদের পরব ।
ধর্ম হোক ভাই মানবতা
“মানুষ আমরা ” এটাই গরব ॥

রবীন্দ্রনাথ নজরুলে কী
ধর্ম দিয়ে ভাগটা করো ,
পুরোহিত আর ইমামকথায়
তবে কেন নেচে মরো ?

রহিম চাচার রক্তে বাঁচে
মহিম খুড়োর ছোট্ট নাতি ।
কেন তবে দাও যে বাধা
নূর হলে তার খেলার সাথী ?

হিন্দু -মুসলিম -জৈন -খ্রিষ্টান
মানুষগড়া বিভেদ পাঁচিল ।
একটানে আয় দিই ছিঁড়ে সব
সংকীর্ণতার সব সে আঁচিল ॥

এই হাতে আজ পাঁপড় খাবো
কালকে খাবো ঈদের হালিম ।
দেখে এসব কাঁপবে দেখিস
আছে যতো ধর্মজালিম ॥

আজকে এসো রশি টানি
কালকে হবে কোলাকুলি ।
মানুষ হয়ে বাঁচবো এসো
গোঁড়ামি সব আয়রে ভুলি ॥

বায়োস্কোপ ———————————————————- পীযূষ কান্তি দাস ————————————————————————————————বজ্রনির্ঘোষ আঁধার রাত পিছল ছিল পথ , মুষলধারে বৃষ্টি পড়ে হাতের মাঝে হাত । তুই আর আমি হাঁটতেছিলাম সেই সে আঁধার রাতে দুরু দুরু বুকে হাঁটা সেই সে বিজন পথে ॥ হঠাত্ কোথায় বাজ পড়লো কাছেই কোন গাছে – আচমকা তোর জড়িয়ে ধরে কাঁপন থরো থরো অভয় দিতে কপোল পরে আলতো দেওয়া চুম , বাড়ি ফিরে নিশ্চিন্তে দিয়েছিলেম ঘুম ॥ স্মৃতির মাঝে আজও কেমন সিনেমার ওই রিল , স্বপ্নভাঙা হলো শুরু বেকার আমি তাই – একবিকেলে পিয়ন এলো হলুদলাগা খাম আজও কেমন বেঁচে আছি জীবনখেয়া বাই ॥ আজও তেমন বৃষ্টি পড়ে বাজও পড়ে জোরে সূর্য ওঠে রাঙিয়ে দেয় পুবের আকাশ ভোরে – তুই কোথায় আর আমি কোথায় ভাবতে বসি রোজ বুক ভেসে যায় নয়নজলে কে রাখে তার খোঁজ ?

বায়োস্কোপ
———————————————————-
পীযূষ কান্তি দাস
————————————————————–বজ্রনির্ঘোষ আঁধার রাত পিছল ছিল পথ ,
মুষলধারে বৃষ্টি পড়ে হাতের মাঝে হাত ।
তুই আর আমি হাঁটতেছিলাম সেই সে আঁধার রাতে
দুরু দুরু বুকে হাঁটা সেই সে বিজন পথে ॥

হঠাত্ কোথায় বাজ পড়লো কাছেই কোন গাছে –
আচমকা তোর জড়িয়ে ধরে কাঁপন থরো থরো
অভয় দিতে কপোল পরে আলতো দেওয়া চুম ,
বাড়ি ফিরে নিশ্চিন্তে দিয়েছিলেম ঘুম ॥

স্মৃতির মাঝে আজও কেমন সিনেমার ওই রিল ,
স্বপ্নভাঙা হলো শুরু বেকার আমি তাই –
একবিকেলে পিয়ন এলো হলুদলাগা খাম
আজও কেমন বেঁচে আছি জীবনখেয়া বাই ॥

আজও তেমন বৃষ্টি পড়ে বাজও পড়ে জোরে
সূর্য ওঠে রাঙিয়ে দেয় পুবের আকাশ ভোরে –
তুই কোথায় আর আমি কোথায় ভাবতে বসি রোজ
বুক ভেসে যায় নয়নজলে কে রাখে তার খোঁজ ?

“আপোষ” ———————————————————- পীযূষ কান্তি দাস ———————————————————- ও গফুর তুই কোথায় গেলি কোথায় বা তোর মহেশ , গো -হাটা তে দে বেচে দে হয়ে গেছে বয়েস ! ক্ষুধায় মানুষ মরছে কত দেখছে না কেউ গিয়ে , কিন্তু দেশের নেতারা সব নাচছে গরু নিয়ে । বামুন পাড়ায় বসেছে যে সেই সে টেপাকল , তোর আমিনা পারবে যেতে আনতে সেথায় জল ? ভোটের বাঁশি বাজলে পরে নেতায় উঠান মাড়ায় , স্বপ্নথলি খুলে বসে তখন তোদের পাড়ায় । আমরা সবাই স্বাধীনদেশের স্বাধীন নাগরিক , ভোটের সময় সেসব কথা যায় বুঝিয়ে ঠিক । হ্যান করেঙ্গে ত্যান করেঙ্গে কত উঁচু গলা , মিটে গেলেই ভোটের পরব যায় দেখিয়ে কলা । খাটতে হবে তোমায় -আমায় নইলে উনুন বন্ধ , বেশি কিছু বললে পরেই গায় বিরোধীর গন্ধ । বাঁচতে যদি চাও রে শোনো আপোষ করে যাও , নইলে ধরো নেতার ছাতা আর গুনগান গাও ॥