“আঙুলে আঙুল ছুঁয়ে কতদিন বসা হয় নাই ” – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – পীযূষ কান্তি দাস _____________________________________ সবে তো চোদ্দদিন ….. এখনও অনেক দিন বাকি । যান্ত্রিক জীবন নিয়ে সারাক্ষণ সবে ছুটে গেছি আপনারে দিয়ে শুধু ফাঁকি । বিশ্বজুড়ে হাহাকার – মৃত্যুদূত ওই বুঝি এসে গেছে দোরে , তাই বুঝি মন আজ করে শুধু আনচান কতদিন কতদিন ছুইনি কো তোরে ! বুকফাটা নিরাশার ঘন মেঘ মনে মনে ভয় শুধু ভয় ক্রিকেটের এতো খেলা নয় তবু হয় কত কত রান আর দেখি পলে পলে উইকেট ক্ষয় ।। ভাবনারা মাথা নয় বুকে চেপে আসে , সারা বিশ্ব মহামারি ত্রাসে জড়সড় অবিশ্বাস…. নরমে গরমে কেউই পেতে চায় জীবনের আশ্বাস । অথচ উপোষ দেয় … অনাহারে মরে কত লোক । কে আছো কোথায় আছো কেউ কারুর নেয় নাকো খোঁজ ! মদগর্বী উন্নয়ণ এর চাকা গ্রাসিল ধরণী আজি , জীবনের বিনিময়ে সব সব দিয়ে দিতে রাজি । তোমার কাছেতে আমি চাই নাকো আলিঙ্গন কিংবা চুম্বন , হাতের মাঝেতে হাত চোখে রেখে চোখ বসতে চাই বাকি আছে যতটা জীবন ॥

“বিষ্টিদিনের কথা ” – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – পীযূষ কান্তি দাস – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – টুপটুপাটুপ ঝম্ঝমাঝম্ বিষ্টি এলে জুড়োয় প্রাণ, কালো মেঘে ঢাকলে আকাশ পুকুর পাড়ে ভেকের গান। পাকাল মাছের মতোই পিছল হোকনা যতোই আজকে পথ , বর্ষাকালের আসলি মজা জমজমাটি মেলার রথ । ‘রেনি-ডে’ আজ সারাটিদিন জল থৈ থৈ শহর গ্রাম , কাগজ নৌকা ভাসিয়ে খোকা দেয় লিখে তায় নিজের নাম । নৌকাটি তার পথ নদীতে ওই যে দেখো যায় ভেসে , দুলতে দুলতে পৌঁছে যাবে নাম না জানা দূর দেশে ।।

“শপথ দিলাম তোরে ” – – – – – – – – – – – – – – – – পীযূষ কান্তি দাস – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – যা পাখি উড়িয়ে দিলাম তোরে, রাখবো না আর খাঁচায় বন্দী করে । উড়াল দে তুই দে রে মেলে পাখা, জেনে গেছি আর যাবে না তোকে বেঁধে রাখা ॥ ভালোবাসার শিকল দিলাম খুলে , দুঃখ যদি দিয়ে থাকি যাস রে সে সব ভুলে । বাঁধিস না হয় নতুন ডালে বাসা, দোয়া মাগি এবার যেন পুরে রে তোর আশা ॥ আধেক পথে হাতও দিলি ছাড়ি , ভাঙলো তরীর হাল আমায় ডাকছে জানি কাল- তবুও আমি উথাল নদী একা একা আঁধার রাতে দেবো না হয় পাড়ি ॥ নতুন বাসায় বসে যদি আমায় মনে পড়ে , ফেলবি না তুই চোখের পানি তিন সত্যি এটাই মানি ভালোবেসে সেই বাসাটা নিজের মনের মতো করে নিস রে দোহাই গড়ে ॥

“খুশির দোল ” – – – – – – – – – – – — – – – — – – – – – – – – পীযূষ কান্তি দাস – – – – – – – – – – – – – – – – – – পলাশবনে আগুন লাগা এখন ফাগুনমাস , আমের বোলে গন্ধে আকুল দখিনা বাতাস ॥ কোকিল ডাকে কুহু কুহু গাছে কিশলয় , মনের সাথে মেলাও রে মন দূর হোক সংশয় ।। আয় রে সবাই একসাথে ভাই পরে হোলির সাজ , লাল হলুদ আর গোলাপিতে রঙিন হবো আজ ॥ যেদিকে চাই রঙিন সবাই আনন্দে হিল্লোল , মন হয়েছে মাতোয়ারা আজ যে খুশির দোল ॥

আজব দুনিয়া

“আজবদেশ”
– – – – – – – – – – – – – – – — – – – – – – – – – – – – – – – – – – – –
পীযূষ কান্তি দাস
– – — – – – – – — – – – – – – – – — — – – – – – – – -হীরে ব্যাপারী নীরব মোদী জানিনে কার ব্যাটা , ‘গ্যারা’হাজার কোটি ঝেড়েই দিলেএমনি বুকের পাটা !
আমআদমীরা পায় না রে ভাই কোনরকম ঋণ ,
তোমারদের বেশ যায় যে জুটে গেলেই প্রথমদিন !
ব্যবসার নামে লোনটি নিয়ে করবে না যে শোধ ,
ব্যাংকারে কী জানতো না তা এমনই নির্বোধ ?
আসলে তা নয় রে সত্য জানতো তারা সবাই ,
না দিলে যে উপরয়ালায় করবে তাদের জবাই ।
ঋণের দায়ে গরীবচাষির গলায় জোটে ফাঁস ,
তোমরা করো মারা টাকায় সুখে বিদেশবাস ।
লস মেটাতে জনগনের করের টাকাই যায় ,
আঙ্গুল চোষো ভারতবাসী আর করো হায় হায় ॥

ছড়ার ভুবন

“নিদান”
– – – – – – – – – – – – – – — – – – –
পীযূষ কান্তি দাস
– – – – – – – – – – – – – – – – – – –
রামকমলের বাড়লো সুগার ছুঁলো চারশো দশ ,
গেলে ওষুধ দেদার তবু রোগ মানেনা বশ ।
রাতেরবেলায় বারে বারে বাথরুম যাওয়ার ধুম
তিরিক্ষে তার মেজাজটি রয় না হওয়াতে ঘুম ।
দিনেরবেলায় শুধুই ঝিমোয় দোকানঘরে বসে ,
লাভের গুড় সব পিঁপড়েতে খায় দোকান চলে ‘লসে’॥

শহর থেকে দুদিন আগে এসেছে তার দাদা ,
সব শুনে সে বললে হেসে “শোন রে বোকা গাধা –
গাদা গাদা ওষুধ খেলেই সুগার কমে না রে,
তার সাথে ওই সকালবেলায় হাঁটতেও তুই যা রে ।
ঘাম ঝরানো হাঁটা যদি হাঁটিস একটি ঘন্টা,
অনেক বিমার কমেই যাবে থাকবে ভালো মনটা ।
হাঁটার সাথে জিভে একটু লাগাম লাগাও ভাই ,
সঠিক ওষুধ তার সাথে খাও বলবে সুগার যাই” ॥

গল্প সম্ভার

” ভ্যালেন্টাইন ডে ”

– – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – — – – – – – – – – – – – – –

পীযূষ কান্তি দাস

– – – – – – – – – – – – – – – — – – – – – – – – – – – – – – – – – – – –

মধ্য ফেব্রুয়ারি দেখতে দেখতে এসে গেল । থুরথুরি শীতের থেকে মুক্তি পেয়েছে সব্বাই । শীতের জামাকাপড়  কাচাকাচি করার জন্য কদিন ধরেই ইজি আনতে বলে বলে গিন্নি পাগল করে দিচ্ছিল । তা সেটাও চারদিন আগেই  এনে দিয়েছে বাড়ির কর্তা । গিন্নিও সাথে সাথে দুদিন ধরে তার একপ্রস্থ  কেচেকুচে রোদে ভালো করে শুকিয়ে আলমারি ভর্তি করে দিয়েছে । আজ যখন কর্তা অফিস বেরুচ্ছে প্রতিদিনের মতো তার টিফিনের ব্যাগ রুমাল হাতে নিয়ে গিন্নি গেটের পাশে দাঁড়িয়ে । কর্তা খেয়ে দেয়ে পানের খিলি মুখে পুরে বাইরের সিমেন্টের বেঞ্চটায় বসে মোজা পায়ে গলিয়ে জুতো জোড়ায় ব্রাশ মেরে ঘরের দিকে তাকালেন আর ঠিক তখনই

— বাবা আমায় একশ টাকা দাও তো বলতে বলতে কন্যা তমালিকার প্রবেশ ।

——কেন রে তুই কি আজ কোথাও যাবি মা ?

মেয়ের কিছু উত্তর দেওয়ার আগেই বাইরের থেকে সাইকেল ঠেলতে ঠেলতে ছেলে রিতম ঢুকলো বাড়ি । লম্বা ছিপছিপে চেহারা । উচ্চতা আনুমানিক পাঁচ ফুট দশ বয়স  ষোল -সতেরো । সবে হাল্কা গোঁফের রেখা উঠেছে । মাথার চুল উপরের দিকে থোপা থোপা করে ছাঁটা । কানের পাশে চাঁছা । পিঠে কিটব্যাগ । স্পাইক লাগানো বুট জোড়া সাইকেলের হ্যান্ডেলের দুদিকে ঝুলছে । দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে প্র্যাকটিস থেকে ফিরছে ।

——-বাবা আমার কিন্তু আজ পাঁচশ  চাই ।

———-কেন রে তোর আবার কী হলো ?

—-বাবা তুমি যদি ওকে পাঁচশ টাকা দাও তবে আমার কিন্তু দুশো –

কর্তা কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে কিছুনা বলে পেছন পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে মেয়ে কে দুশো ও পুত্র কে একটা  গান্ধিমার্কা নতুন নোট দিয়ে আসছি বলে দ্রুত বাসস্টপেজের দিকে হাঁটা দিলেন । পথে হাঁটতে হাঁটতে ভাবতে লাগলেন হঠাৎ আজ কি এমন হলো যে ছেলে মেয়ে দুজনের একই সাথে টাকার দরকার পড়ল । ভাবতে ভাবতে তিনি বাস স্টপেজে হাজির । কিছুক্ষণের মধ্যেই বাস এলো এবং তিনি বাস ধরে অফিসে গেলেন ।   কমলেশবাবু  অফিসের বড় বাবু তাই সঠিক সময়ে আসা ও যাওয়া আসার ব্যাপারে তিনি সেই পি .সি .রায়  ॥

আজ অফিসের পরিবেশটা যেন আর পাঁচটা দিনের মতো নয় কেমন যেন অন্য রকম । কেমন খুশি খুশি সব্বাই । বিশেষ করে ছোকরা ছেলেমেয়ে গুলোর সব্বাই বেশ দামী দামী জামাকাপড় পরেছে আর তাদের গা থেকে ভুর ভুর করে দামী সেন্টের খুসবু অফিসের বাতাসে মাদকতা ছড়াচ্ছে । হঠাৎ তাঁরদের অফিসের স্টেনো মহিমা এসে বললে

——–স্যার স্যার আজ কিন্তু আমায় একটু তাড়াতাড়ি ছুটি দিতে হবে ।

— —-কেন কেন ? আজ আবার তোমার কি হল ? তোমার মা -বাবা তো সেই নিউইয়র্কে তোমার দাদার কাছে । তাঁরা যখন ছিলেন তখন না হয় যাওয়ার একটা অজুহাত থাকত । এখন তো সে বালাই নেই ।

———স্যার আজ যে অন্য ব্যাপার —-

———অন্য ব্যাপার মানে ?

———স্যার আজ যে ভ্যালেন্টাইন ডে !

এতক্ষণে তিনি বুঝালেন ছেলে মেয়ের টাকা চাওয়ার কারণ ।

সেদিন অফিস থেকে ফেরার সময় কমলেশবাবু নগদ কড়কড়ে পঞ্চাশটাকা দিয়ে একটি আধফোটা লাল গোলাপ নিয়ে বাড়ি গেলেন এবং বাড়ি ফিরেই আপন সহধর্মিনীর হাতে সেটি তুলে দিয়ে বললেন

——–হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন ডে ।

অমনি তাঁর গিন্নি মুচকি হেসে বললেন

— -আ মলো যা ! বুড়ি হয়ে মরতে বসলুম ইদিকে আর  উঁনি এয়েচেন পিরীত কর্তে –!

ছোঁয়া কাব্যগ্রন্থ

“পুণর্যাত্রা”

তারিখ :–২৩শে ডিসেম্বর ২০১৭
– – – – – – – – – – -:- – – – – – – – – – – – –
পীযূষ কান্তি দাস
– – — – – –:- – – – – – – – – – :- – – – — –
সবটুকু ক্ষণ যায়নি চলে আছে অনেক বাকি ,
আয় না দুজন বাকি জীবন পাশাপাশি থাকি ।
আগের মতোই হেসে -খেলে দিনগুলি সব যাক্ ,
মনভোমরা গুনগুনিয়ে খুশির ই গান গাক্ ।
ইচ্ছে হই ফের দামাল নদী তুই হ সাগরবেলা ,
খুনসুটি হোক আগের মতোই করি দুজন খেলা ।
কিংবা তুই হ পূর্ণিমাচাঁদ আমার আকাশ বুকে ,
ভরুক এ মন জোছনাতে তোর কাটবে সময় সুখে ।
রিম্ ঝিম্ ঝিম্ বৃষ্টি হবি আমার দহন কালে ,
টুপুর টাপুর বৃষ্টিনূপুর আমার টিনের চালে ।
শরৎকালে আবার হবি আমার কাশের বন ,
পাগলাবাতাস আমি হবো দুলবি সারাক্ষণ ।
হেমন্তে তুই শিশিরকণা আমি ধানের শীষ ,
সারারাতি ভালোবাসায় ধুইয়ে আমায় দিস ।
শীতের কালে লেপের ওমে দুজন মাতোয়ারা ,
আগের মতোই ভালোবাসায় হবো পাগলপারা ।
কোকিল হবো বসন্তে তুই কৃষ্ণচূড়ার ডাল ,
মিঠে চুমুর পরশ দিয়ে রাঙাবো তোর গাল ।
সবটুকু ক্ষণ যায়নি চলে আছে কিছু বাকি ,
নতুন করে হোক না শুরু হাতটি হাতে রাখি ॥

” যোগ্যতা”
———————————————————-
পীযূষ কান্তি দাস
———————————————————-
এই ছোঁড়া তুই এদিকে আয় কেন ওদিক যাস ,
ঘুরলি তো রে দশটি বছর মিটলোনা তাও আশ !
লাভ কিছু নাই পার্টি করে বুঝবি দুদিন পরে ,
এইবেলা তাই ঘরের ছেলে যা ফিরে যা ঘরে ।
ওদের পিছে ঘুরে ঘুরে করলে বয়স পার ,
আমার মতো কাঁদতে হবে জীবনটা ছারখার ।
তোর মতো হায় ঘুরেছিলাম আমিও আট সাল ,
শুনিনি তো কারুর মানা বাপের যতো গাল ।
বুড়োবাপে খেটেছিলো মুখে তুলে রক্ত ,
আমি নাকি কাজের ছেলে পার্টির বড়ো ভক্ত ॥

অনেক কষ্টে করেছিলাম এম .এ .টুকুন পাশ,
“চাকরী পাবি” পার্টির দাদাও দিয়ে ছিলো আশ ।
পার্টির জন্য ঝরিয়েছিলাম কতো রক্ত- ঘাম ,
কাজ ফুরাতে হলাম পাজি নাই কোন তার দাম ।
দুইটি বিঘে জমিন বেচে দিলাম আট লাখ টাকা ,
আরও দুলাখ দিতে গিয়ে মায়ের গয়না ফাঁকা ।
গিয়ে গিয়ে ছিঁড়লো জুতা জোটেনি তাও কাজ ,
পরের জমির দিনমজুরী তাইতো করি আজ ।
তখন থেকেই বুঝে গেছি হলো মোহভঙ্গ ,
সবচে’ বড়ো আজবদেশ ভাই আমাদের এই বঙ্গ ।
যতোই তুমি পাশ কেন দাও লাখ যোগ্যতা থাক ,
সেসব ভাই ওই শিকের পরে সবাই তুলে রাখ ।
ভাগ্না -ভাগ্নি হতে হবে নিদেন বউয়ের ভাই ,
নইলে জানিস কপালে তোর চাকরীটা তো নাই ॥

“নীরব ব্যথা ” পীযূষ কান্তি দাস – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – যখন তুমি নৌকোতে পাল তুলে দাও যে পাড়ি নতুন কোনো দেশে , দুচোখ আমার হয় যে অশ্রুনদী দলা পাকায় কষ্টগুলো এসে ॥ আলোর ছটায় যাও যে তুমি ভেসে আমার জীবন আঁধার দিয়ে ঘেরা , কান্না চেপে হাসতে থাকি আমি সেই অভিনয় নয় কী সবার সেরা ? ব্যস্ত তুমি লক্ষ লোকের ভীড়ে বলছো কথা সবার সাথে হেসে , একলা আমি নদীর কূলে বসে ব্যথার তরী যায় যে আমার ভেসে ॥ কপালজুড়ে তোমার বিজয়টিকা খুশির ছোঁয়া তোমার চোখেমুখে, জানি এখন ভালোই আছো তুমি তোমার সুখেই তৃপ্তি আমার বুকে ॥

“পরানপাখি” – – – – – – – – – — – – – – – — – – – – – – – পীযূষ কান্তি দাস – – – – – – – – – – – – – – – – – – — – – – – – হাজার মুখের মাঝে আমি খুঁজি একটি মুখ , যার পরশে তৃপ্তি পেতাম জুড়িয়ে যেতো বুক । হাজার কণ্ঠস্বরের মাঝে তার স্বরটাই খুঁজি, হারিয়েছি তায় অবহেলায় ফিরলো না তাই বুঝি । তার মতো আর ভালোবাসা পেলাম না তো ভাই হু হু করে বুকের মাঝে নাই সে কাছে নাই। এসো এসো ফিরে প্রিয়া আবার আমার কাছে, তবেই যদি জুড়ায় এ মন পরান আবার বাঁচে । রূপের কথা তুলবো না আর ফর্সা কিংবা কালো যেমন ছিলে তুমি আমার সেটাই ছিলে ভালো। চাইনে আমি উর্বশী বা কোনো তিলোত্তমা ? তুমিই আমার পরানপাখি আমার প্রিয়তমা ॥

“ইচ্ছে ”
———————————————————-
পীযূষ কান্তি দাস
———————————————————-
যাচ্ছি পথে উদাস মনে হঠাত্ ডাক
চমকে ঘুরি পেছন পানে কোথায় কে ,
জানতো যেজন বলেছিলো,” গোপন থাক ”
তবে আমায় এ নাম ধরে কে ডাকে  ?

ডাকার লোককে হারিয়েছি বিশটি সাল
পাগলসম ঘুরছি কেবল দিক-বিদিক ,
খোলেনি তো এ যে ভীষণ উর্ণাজাল
বুঝিনি হায় আজও কে ভুল কে যে ঠিক ॥

জীবনটা আজ ছন্নছাড়া কার দোষে
একটুখানি দেয়ওনি কেউ সান্ত্বনা ,
সন্ধ্যেবেলাই ‘ছাই -পাঁশ’ নিয়ে যাই বসে
বোঝেনা কেউ কি যে আমার যন্ত্রণা ॥

দিনে দিনে ফুরোচ্ছে দিন বুঝছি বেশ
যন্ত্রণা হয় বুকে -পেটে এখন খুব ,
হাসির মাঝেই লুকাই আমি কাঁদার রেশ
ইচ্ছে জাগে হঠাত্ করে দিই তো ডুব ॥