গল্প সম্ভার

” ভ্যালেন্টাইন ডে ”

– – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – — – – – – – – – – – – – – –

পীযূষ কান্তি দাস

– – – – – – – – – – – – – – – — – – – – – – – – – – – – – – – – – – – –

মধ্য ফেব্রুয়ারি দেখতে দেখতে এসে গেল । থুরথুরি শীতের থেকে মুক্তি পেয়েছে সব্বাই । শীতের জামাকাপড়  কাচাকাচি করার জন্য কদিন ধরেই ইজি আনতে বলে বলে গিন্নি পাগল করে দিচ্ছিল । তা সেটাও চারদিন আগেই  এনে দিয়েছে বাড়ির কর্তা । গিন্নিও সাথে সাথে দুদিন ধরে তার একপ্রস্থ  কেচেকুচে রোদে ভালো করে শুকিয়ে আলমারি ভর্তি করে দিয়েছে । আজ যখন কর্তা অফিস বেরুচ্ছে প্রতিদিনের মতো তার টিফিনের ব্যাগ রুমাল হাতে নিয়ে গিন্নি গেটের পাশে দাঁড়িয়ে । কর্তা খেয়ে দেয়ে পানের খিলি মুখে পুরে বাইরের সিমেন্টের বেঞ্চটায় বসে মোজা পায়ে গলিয়ে জুতো জোড়ায় ব্রাশ মেরে ঘরের দিকে তাকালেন আর ঠিক তখনই

— বাবা আমায় একশ টাকা দাও তো বলতে বলতে কন্যা তমালিকার প্রবেশ ।

——কেন রে তুই কি আজ কোথাও যাবি মা ?

মেয়ের কিছু উত্তর দেওয়ার আগেই বাইরের থেকে সাইকেল ঠেলতে ঠেলতে ছেলে রিতম ঢুকলো বাড়ি । লম্বা ছিপছিপে চেহারা । উচ্চতা আনুমানিক পাঁচ ফুট দশ বয়স  ষোল -সতেরো । সবে হাল্কা গোঁফের রেখা উঠেছে । মাথার চুল উপরের দিকে থোপা থোপা করে ছাঁটা । কানের পাশে চাঁছা । পিঠে কিটব্যাগ । স্পাইক লাগানো বুট জোড়া সাইকেলের হ্যান্ডেলের দুদিকে ঝুলছে । দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে প্র্যাকটিস থেকে ফিরছে ।

——-বাবা আমার কিন্তু আজ পাঁচশ  চাই ।

———-কেন রে তোর আবার কী হলো ?

—-বাবা তুমি যদি ওকে পাঁচশ টাকা দাও তবে আমার কিন্তু দুশো –

কর্তা কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে কিছুনা বলে পেছন পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে মেয়ে কে দুশো ও পুত্র কে একটা  গান্ধিমার্কা নতুন নোট দিয়ে আসছি বলে দ্রুত বাসস্টপেজের দিকে হাঁটা দিলেন । পথে হাঁটতে হাঁটতে ভাবতে লাগলেন হঠাৎ আজ কি এমন হলো যে ছেলে মেয়ে দুজনের একই সাথে টাকার দরকার পড়ল । ভাবতে ভাবতে তিনি বাস স্টপেজে হাজির । কিছুক্ষণের মধ্যেই বাস এলো এবং তিনি বাস ধরে অফিসে গেলেন ।   কমলেশবাবু  অফিসের বড় বাবু তাই সঠিক সময়ে আসা ও যাওয়া আসার ব্যাপারে তিনি সেই পি .সি .রায়  ॥

আজ অফিসের পরিবেশটা যেন আর পাঁচটা দিনের মতো নয় কেমন যেন অন্য রকম । কেমন খুশি খুশি সব্বাই । বিশেষ করে ছোকরা ছেলেমেয়ে গুলোর সব্বাই বেশ দামী দামী জামাকাপড় পরেছে আর তাদের গা থেকে ভুর ভুর করে দামী সেন্টের খুসবু অফিসের বাতাসে মাদকতা ছড়াচ্ছে । হঠাৎ তাঁরদের অফিসের স্টেনো মহিমা এসে বললে

——–স্যার স্যার আজ কিন্তু আমায় একটু তাড়াতাড়ি ছুটি দিতে হবে ।

— —-কেন কেন ? আজ আবার তোমার কি হল ? তোমার মা -বাবা তো সেই নিউইয়র্কে তোমার দাদার কাছে । তাঁরা যখন ছিলেন তখন না হয় যাওয়ার একটা অজুহাত থাকত । এখন তো সে বালাই নেই ।

———স্যার আজ যে অন্য ব্যাপার —-

———অন্য ব্যাপার মানে ?

———স্যার আজ যে ভ্যালেন্টাইন ডে !

এতক্ষণে তিনি বুঝালেন ছেলে মেয়ের টাকা চাওয়ার কারণ ।

সেদিন অফিস থেকে ফেরার সময় কমলেশবাবু নগদ কড়কড়ে পঞ্চাশটাকা দিয়ে একটি আধফোটা লাল গোলাপ নিয়ে বাড়ি গেলেন এবং বাড়ি ফিরেই আপন সহধর্মিনীর হাতে সেটি তুলে দিয়ে বললেন

——–হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন ডে ।

অমনি তাঁর গিন্নি মুচকি হেসে বললেন

— -আ মলো যা ! বুড়ি হয়ে মরতে বসলুম ইদিকে আর  উঁনি এয়েচেন পিরীত কর্তে –!

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s