ছোঁয়া কাব্যগ্রন্থ

“পুণর্যাত্রা”

তারিখ :–২৩শে ডিসেম্বর ২০১৭
– – – – – – – – – – -:- – – – – – – – – – – – –
পীযূষ কান্তি দাস
– – — – – –:- – – – – – – – – – :- – – – — –
সবটুকু ক্ষণ যায়নি চলে আছে অনেক বাকি ,
আয় না দুজন বাকি জীবন পাশাপাশি থাকি ।
আগের মতোই হেসে -খেলে দিনগুলি সব যাক্ ,
মনভোমরা গুনগুনিয়ে খুশির ই গান গাক্ ।
ইচ্ছে হই ফের দামাল নদী তুই হ সাগরবেলা ,
খুনসুটি হোক আগের মতোই করি দুজন খেলা ।
কিংবা তুই হ পূর্ণিমাচাঁদ আমার আকাশ বুকে ,
ভরুক এ মন জোছনাতে তোর কাটবে সময় সুখে ।
রিম্ ঝিম্ ঝিম্ বৃষ্টি হবি আমার দহন কালে ,
টুপুর টাপুর বৃষ্টিনূপুর আমার টিনের চালে ।
শরৎকালে আবার হবি আমার কাশের বন ,
পাগলাবাতাস আমি হবো দুলবি সারাক্ষণ ।
হেমন্তে তুই শিশিরকণা আমি ধানের শীষ ,
সারারাতি ভালোবাসায় ধুইয়ে আমায় দিস ।
শীতের কালে লেপের ওমে দুজন মাতোয়ারা ,
আগের মতোই ভালোবাসায় হবো পাগলপারা ।
কোকিল হবো বসন্তে তুই কৃষ্ণচূড়ার ডাল ,
মিঠে চুমুর পরশ দিয়ে রাঙাবো তোর গাল ।
সবটুকু ক্ষণ যায়নি চলে আছে কিছু বাকি ,
নতুন করে হোক না শুরু হাতটি হাতে রাখি ॥

” যোগ্যতা”
———————————————————-
পীযূষ কান্তি দাস
———————————————————-
এই ছোঁড়া তুই এদিকে আয় কেন ওদিক যাস ,
ঘুরলি তো রে দশটি বছর মিটলোনা তাও আশ !
লাভ কিছু নাই পার্টি করে বুঝবি দুদিন পরে ,
এইবেলা তাই ঘরের ছেলে যা ফিরে যা ঘরে ।
ওদের পিছে ঘুরে ঘুরে করলে বয়স পার ,
আমার মতো কাঁদতে হবে জীবনটা ছারখার ।
তোর মতো হায় ঘুরেছিলাম আমিও আট সাল ,
শুনিনি তো কারুর মানা বাপের যতো গাল ।
বুড়োবাপে খেটেছিলো মুখে তুলে রক্ত ,
আমি নাকি কাজের ছেলে পার্টির বড়ো ভক্ত ॥

অনেক কষ্টে করেছিলাম এম .এ .টুকুন পাশ,
“চাকরী পাবি” পার্টির দাদাও দিয়ে ছিলো আশ ।
পার্টির জন্য ঝরিয়েছিলাম কতো রক্ত- ঘাম ,
কাজ ফুরাতে হলাম পাজি নাই কোন তার দাম ।
দুইটি বিঘে জমিন বেচে দিলাম আট লাখ টাকা ,
আরও দুলাখ দিতে গিয়ে মায়ের গয়না ফাঁকা ।
গিয়ে গিয়ে ছিঁড়লো জুতা জোটেনি তাও কাজ ,
পরের জমির দিনমজুরী তাইতো করি আজ ।
তখন থেকেই বুঝে গেছি হলো মোহভঙ্গ ,
সবচে’ বড়ো আজবদেশ ভাই আমাদের এই বঙ্গ ।
যতোই তুমি পাশ কেন দাও লাখ যোগ্যতা থাক ,
সেসব ভাই ওই শিকের পরে সবাই তুলে রাখ ।
ভাগ্না -ভাগ্নি হতে হবে নিদেন বউয়ের ভাই ,
নইলে জানিস কপালে তোর চাকরীটা তো নাই ॥

“নীরব ব্যথা ” পীযূষ কান্তি দাস – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – যখন তুমি নৌকোতে পাল তুলে দাও যে পাড়ি নতুন কোনো দেশে , দুচোখ আমার হয় যে অশ্রুনদী দলা পাকায় কষ্টগুলো এসে ॥ আলোর ছটায় যাও যে তুমি ভেসে আমার জীবন আঁধার দিয়ে ঘেরা , কান্না চেপে হাসতে থাকি আমি সেই অভিনয় নয় কী সবার সেরা ? ব্যস্ত তুমি লক্ষ লোকের ভীড়ে বলছো কথা সবার সাথে হেসে , একলা আমি নদীর কূলে বসে ব্যথার তরী যায় যে আমার ভেসে ॥ কপালজুড়ে তোমার বিজয়টিকা খুশির ছোঁয়া তোমার চোখেমুখে, জানি এখন ভালোই আছো তুমি তোমার সুখেই তৃপ্তি আমার বুকে ॥

“পরানপাখি” – – – – – – – – – — – – – – – — – – – – – – – পীযূষ কান্তি দাস – – – – – – – – – – – – – – – – – – — – – – – – হাজার মুখের মাঝে আমি খুঁজি একটি মুখ , যার পরশে তৃপ্তি পেতাম জুড়িয়ে যেতো বুক । হাজার কণ্ঠস্বরের মাঝে তার স্বরটাই খুঁজি, হারিয়েছি তায় অবহেলায় ফিরলো না তাই বুঝি । তার মতো আর ভালোবাসা পেলাম না তো ভাই হু হু করে বুকের মাঝে নাই সে কাছে নাই। এসো এসো ফিরে প্রিয়া আবার আমার কাছে, তবেই যদি জুড়ায় এ মন পরান আবার বাঁচে । রূপের কথা তুলবো না আর ফর্সা কিংবা কালো যেমন ছিলে তুমি আমার সেটাই ছিলে ভালো। চাইনে আমি উর্বশী বা কোনো তিলোত্তমা ? তুমিই আমার পরানপাখি আমার প্রিয়তমা ॥