“জামাইষষ্ঠী ” ———————–:——————-:————– পীযূষ কান্তি দাস ———————————————————- বৈশাখ মাসে হালখাতা ওই তারপর এলো জৈষ্ঠী । জামাইদের মুখ হাসি হাসি আজ যে জামাইষষ্ঠী ।। যাচ্ছে সবাই শ্বশুরবাড়ি মিষ্টি প্যাকেট ভরা , পড়ুক যতই গরম কিংবা হোক সে বন্যা -খরা । ট্রামে -বাসে বাদুড়ঝোলা মুশকিল পা টি ফেলা , এড়াতে ভিড় চেষ্টা বৃথাই হোক সে সকালবেলা ।। সব জিনিসেই লাগলো আগুন হাত পুড়ে যায় দামে , একটি দোহাই দেয় রে সবাই। জামাইষষ্ঠীর নামে । আম -জাম বা ওই লিচু -কলা ইলিশ -চিংড়ী -পাঁঠা , দাম শুনে বুক ধড়ফড় ধড়ফড় কাঁপছে কেমন গা টা ॥ বাজার ফেরত্ থাকি ভয়ে যদি ডাকেন গিন্নী , হে ঠাকুর আজ দাও তরিয়ে চড়াবো তোমার শিন্নি । কোন জামাই বোঝে না হায় শ্বশুর বেটার কষ্ট , বছরে তো একবার মাত্র দেয় যে বলে স্পষ্ট ।। খাচ্ছে জামাই বেজায় গরম গিন্নি নাড়েন পাখা , শ্বশুরের মুখ হাসি হাসি হলেও পকেট ফাঁকা ॥ পড়লে জৈষ্ঠী খুঁজে ষষ্ঠী পাঁজি নিয়ে হাতে , ফর্দ করেন কর্তা -গিন্নি বসে বসে রাতে । যতই যা হোক প্রতিবছর চাই যে জামাইষষ্ঠী , এটাই হলো আমবাঙালীর বৈশিষ্ট্য আর কৃষ্টি ॥

“কীর্তি ”
———————————————————-
পীযূষ কান্তি দাস
———————————————————-
সময়স্রোতে ভাসিয়ে দিয়ে ভেলা
খেলি আমরা এক্কা-দোক্কা খেলা ।
জীবন সে তো পদ্মপাতায় জল
সকল সময় তাইতো টলমল ॥

কলুরবলদ যেমনি করে ঘোরে ,
আমরাও ঠিক ঘুরছি তেমন করে ।
কালোমেঘে বিজলীর ওই ছটা
কান্না -হাসির তেমনি ঘনঘটা ॥

জীবন -মরণ ঘুরেফিরেই আসে
কেউবা ঘৃণা কেউবা ভালোবাসে ।
যাওয়ার কালে মুখে রাখো হাসি
বাজিয়ে যাও তোমার বিজয় বাঁশি ॥

চলে জীবন কালের নিয়ম ধরে ,
কর্মগুণে কেউ বাঁচে কেউ মরে ।
তাইতো কর্ম করো পরের হিতে ,
যাওয়ার পরেও থাকবে লোকের চিতে ॥

“প্রণাম বিদ্রোহী কবি “— ————-::::————:——-:-:::———– পীযূষ কান্তি দাস ——–::::::——–::————-:::———— জেলা বর্ধমান চুরুলিয়া গ্রাম , চুমি রে তোর পূণ্যভূমি করি রে প্রনাম । জন্ম দিয়েছিলি রে মা এক আগুনে ছেলে লাখো জন্মের পুণ্যফলে এমনটাই তো মেলে । আলোরই দিশারী তিনি নতুন ভোরের পাখি তাইতো তাঁকে যত্ন করে হৃদয়মাঝে রাখি । হাতে তাঁর ওই ‘অগ্নিবীণা’, মুখে ‘বিষের -বাঁশি ‘ নিপীড়িত সবার মুখে ফোটালেন যে হাসি ! বিভেদ প্রাচীর ভাঙেন গেয়ে ‘শিকল ভাঙ্গার গান ‘, তাঁরই তো অপূর্ব সৃষ্টি আজও ‘ব্যথার দান ‘ ! ‘ধূমকেতু’রই মতো ছিলো তাঁর সে আগমন , ধন্য হল ভারত সরকার দিয়ে ‘পদ্মভূষণ ‘ ! ‘একুশে -পদক’ তাঁকে দিলো বাংলা দেশ , ঘটালেন ‘বিদ্রোহী’ তিনি চেতনার উন্মেষ ! লেটোরই দল থেকে হল তাঁরই যে উত্থাণ , তাঁরই অমর কীর্তি ‘মুক্তি’ ‘বাঁধন -হারা ‘ গায় জীবনের জয়গান ! ছোটদের ও ভোলেননি দিলেন ‘লিচু-চোর ‘, ‘খুকি ও কাঠবিড়ালি ‘তে কাটে না যে ঘোর ! “অন্তরে মম রবীন্দ্রনাথ চেতনাতে নজরুল ” ক্ষমা করো সবে হয়ে গো সদয় লেখাতে আছে যে ভুল ! গীতিকার ,সুরকার ,কবি ,নাট্যকার , নজরুলে প্রণাম করি ,শত কোটি বার !!

বাংলা মা (প্রকৃতি বিষয়ক কবিতা সমূহ )

তারিখ :–১৮ই মে ২০১৭
“আমার বাংলা মা ”
———————————————————-
পীযূষ কান্তি দাস
———————————————————-রাত পেরিয়ে সূর্য ওঠে
নতুন সকাল আসে ,
আলোর ছোঁয়া পেয়ে আমার
বাংলা মা ওই হাসে ।
গাছের ডালে পাখ -পাখালি
করে কলতান ,
দূরে কোথায় কোকিল ডাকে
মাতাল করে প্রাণ ।।

তাল -সুপারি গাছের সারি
পথের দুধার জুড়ে ,
বড়ো বড়ো অট্টালিকা
তারই মাঝে কুঁড়ে ।
গাঁয়ের মাঝে তালপুকুরে
পদ্ম কত ফোটে ,
মধুর লোভে মধুকর ও
সেথায় এসে জোটে ।।

প্যাঁক -প্যাঁকিয়ে হাঁস ছুটেছে
‘ভুলো’ পিছে ধায় ,
ধরলো বুঝি একটা কে তার
কি যে করি হায় ।
ন্যাংটো খোকা ছুটছে পথে
ঘুঙুর বাঁধা পায়,
পিছে পিছে ধরতে দেখি
তার মা ছুটে যায় ।।

নদীর ঘাটে পারের খেয়া
ডাকছে মাঝি ভাই ,
হারানখুড়ো তাড়াহুড়ো
বলছে ,’আমি যাই’ ।
পথের ধারে দুলছে যে ধান
বায়ুর তালে তালে ,
মাছ পড়েছে মস্ত বড়ো
কিনু জেলের জালে ।
শ্যামলী গাই পাশের মাঠে
বাঁধা যে ওই আছে ,
হাম্বা রবে ‘বুধি’বুঝি
ছুটলো তারই কাছে ।
রাখাল বালক যাচ্ছে গোঠে
বাজিয়ে বাঁশের বাঁশি ,
ও বাংলা মা আমি তোমায়
বড্ড ভালোবাসি ॥

“সকালের ছবি ”
—————————————————————————————————————–
পীযূষ কান্তি দাস
—————————————————————————————————————–
উঠলো রবি
আকাশ লাল ।
ঘুচলো নিশা
এলো সকাল ॥

ডাকলো পাখি
ভাঙলো ঘুম ।
এসে তো মায়
দিলো রে চুম ॥

ওঠ ওঠ সব
আর দেরি নয় ।
রাধেকৃষ্ণ রাধে
ময়নায় কয় ॥

পণ্ডিতমশাই
এসেছেন ভাই ।
চল্ রে সবাই
পাঠশালা যাই ॥