“মধুর স্বাদ ” __________________________________ পীযূষ কান্তি দাস _______— দোহাই তোমায় -তাকিও না অমন তাকিও না অমন দুষ্টুচোখে তীক্ষ্ণ ছুরির ফলার মতো কেমন যাচ্ছে বিঁধে আমার পেলব বুকে ।। হেসো না ওই জলতরঙ্গের মতো লুটাইওনা আর তোমার আঁচল ওই , যাচ্ছি গলে -যাচ্ছি ভেসে আমি ভিতর ভিতর বোঝনা কেন সই ॥ হঠাত্ একি দমকা বাতাস সাথে মুষলধারে বৃষ্টি হলো শুরু , লক্ষ্মীসোনা এসো না আর কাছে বুকটা আমার করছে দুরু দুরু ॥ গুরু গুরু মেঘের ডাকটি শুনি একি করো -জাপটে ধরলে আমায় ? ভেতরের সেই আমি জেগে গেলে কার সাধ্যি আজ আমারে যে থামায় ॥ বলার পরে আরো কাছে এলে করলে পাগল আমারে চুম্বনে – ঘুণাক্ষরেও টের পেলাম না আমি এই দুর্বুদ্ধি ছিলো তোমার মনে ? জীবনের এই প্রথম মধুরস্বাদে অবশ -বিবশ আমার চেতন হলো , এবার আমি রইবো যে কেমনে সেই কথাটি তুমি আমায় বলো ॥

“রংবাজের কথা ” —————————————————- পীযূষ কান্তি দাস ————————————————————– ও পাড়ার ক্যাবলা হাতে নিয়ে নেপালা বেপাড়ায় রঙবাজি করে । সেপাড়ার দামড়া একপাল চ্যাংড়া একদিন ধরে তারে মারে ।। তাই নিয়ে রেষারেষি কাদের জোরটা বেশি সাতদিন বোমা বাজিচলে ।করে সব হানাহানি ক্রমেক্রমে জানাজানি পড়ে গেল পুলিশের কলে॥ তারপর দমাদম খেয়ে মার হরদম সবগুলো মাস্তানি ছাড়ে । আজ তারা ভালো ছেলে ডাকলে সবারে মেলে দেখ সব একসাথে বাড়ে !!

“ফিরিয়ে দাও ” —————————————————– পীযূষ কান্তি দাস ——————————————————————————————-বদলে গেছে সবকিছু আজ ছোট্ট আমার সেই সে গ্রামে , জীবন হলো যান্ত্রিক আজি ডাকে না কেউ চেনা নামে ॥ ওঠা -নামা করে না মন ঢেঁকির পাড়ের মতো যে আর , লজ্জাবতী লতাও বুঝি হারিয়েছে লজ্জাটি তার ॥ চারদিকেতে গিজগিজে ভীড় একটু কোথাও নেই দেখি ঠাঁই , পথের দুধার ভর্তি ঘরে বসবে কোথায় অন্ধ-কানাই ? দামালেরা দাপায় না আর মনমরা আজ ওই মতিঝিল , আকাশেও পাইনে দেখা কোথায় গেল সে শঙ্খচিল ? সেথাও দেখি শিশু ছোটে ভারী ব্যাগটা রয় যে কাঁধে , শৈশব তাদের হারালো হায় নিষেধের ওই হাজার বাঁধে ॥ নদীগুলো মজে গেছে হারিয়েছে স্রোতটি যে তার , গোরু -মানুষ -কুকুর -ভেড়া হেঁটেই করে এপার -ওপার ॥ মাঝিমাল্লার কণ্ঠে যে নেই ভাটিয়ালির মধুর সে গান , আছে বেঁচে সবাই সেথায় তবু তাদের নেই দেখি প্রাণ ॥ আয় রে সবাই আজকে আবার দিলখোলা হই -আবার হাসি , ভুলে সকল দ্বন্দ্ব -দ্বিধা সবাই সবায় ভালোবাসি ॥

“চিত্রকল্প -১”
———————————————————————-
পীযূষ কান্তি দাস
———————————————————————-
মনখারাবির দুপুরে
একলা নির্জন ছাত ।
দূরে -নীলাকাশে বিরহী চিলের
নিষ্ফল পক্ষসঞ্চালন ।
লোনালোনা সোঁদাসোঁদা
ভেজামন -উদাসদৃষ্টি –
সৃষ্টিছাড়া ডাকে
ছুটে যাওয়ার আমন্ত্রণ ॥

ঢলেপড়া লতানো গাছের মতো সূর্যে
রাঙানো ফ্যাকাসে পশ্চিমাকাশ ।
রাখালিয়া বাঁশির মিঠেল সুরে
রাধার জলেভরা চোখ ।
হারিয়ে যাওয়া সময়ের
জটিল উর্ণাজাল –
সব পেয়েও না পাওয়ার
বোবা কান্না ভাসিয়ে নিয়ে যায়
দূরে –বহুদূরে ॥

“আপদ ”
—————————————————
“পীযূষ কান্তি দাস
————————————————————–নাইবা হলি গোলাপ -চাঁপা জুঁই
নাইবা হলি তুই সে হাস্নুহানা ,
ইচ্ছে করছে তোর কাছেতে শুই
মানছে না মন মানছে নারে মানা ॥

কমলকলি নাইবা হলি তুই
নাইবা দিলি গন্ধ সুমধুর ,
পড়লে প্রেমে ক্ষেন্তিও শ্রীদেবী
প্রেম সুবাসে মনটা যে ভরপুর ॥

জোটে না ভাত তায় পান্তা আর তপ্ত
মন উপোসী আছে যে বিশ সাল ,
বেপাড়া তে মারিস নে হাত যেন
ধরলে পরে তুলবে পিঠের ছাল ॥

তার চেয়ে মন আপোষ করাই ভালো
বলবে সবাই তখন ভদ্রলোক ,
উঠতি ‘মাল’ সে হাজার একটা গেলেও
তাকাস নে তুই তূলিস না তোর চোখ ॥

“আপদ ” ————————————————— “পীযূষ কান্তি দাস ————————————————————————-নাইবা হলি গোলাপ -চাঁপা জুঁই নাইবা হলি তুই সে হাস্নুহানা , ইচ্ছে করছে তোর কাছেতে শুই মানছে না মন মানছে নারে মানা ॥ কমলকলি নাইবা হলি তুই নাইবা দিলি গন্ধ সুমধুর , পড়লে প্রেমে ক্ষেন্তিও শ্রীদেবী প্রেম সুবাসে মনটা যে ভরপুর ॥ জোটে না ভাত তায় পান্তা আর তপ্ত মন উপোসী আছে যে বিশ সাল , বেপাড়া তে মারিস নে হাত যেন ধরলে পরে তুলবে পিঠের ছাল ॥ তার চেয়ে মন আপোষ করাই ভালো বলবে সবাই তখন ভদ্রলোক , উঠতি ‘মাল’ সে হাজার একটা গেলেও তাকাস নে তুই তূলিস না তোর চোখ ॥