মন খারাবি

“মন -খারাবি ”
__________________________________________
পীযূষ কান্তি দাস
__________________________________________
মন -খারাবি যখন -তখন
বড্ড জ্বালায় আমায় ।
মনের ঘরে উঁকি মারে
আর শুধু যে কাঁদায় ॥

সকাল বেলায় দেখি আয়নায়
গোমড়া আমার মুখ ,
তোমরা বলো সারাদিনে
পাবো কি আর সুখ ?
যখন থাকে কাজের মাঝে
একটুখানি ফাঁক ,
তারও মাঝে আমায় সে যে
করে যে হাঁক -ডাক ॥
আবার যখন লিখতে বসি
কাগজ -কলম নিয়ে ,
বানের মতো জল বয়ে যায়
আমার দুচোখ দিয়ে ॥

রাত্তিরেতে সবার শেষে
শুতে যখন যাই ,
তখনো হায় আমায় জ্বালায়
ছাড়ানতো না পাই ।
ঘুম না আসে থাকি বসে
মাথায় প্রবল ব্যথা ,
তবু যে হায় ,কেউ না জিগায়
আর না বলে কথা ।
গাদা -গাদা সাদা -সাদা
খাই যে ঘুমের বড়ি ,
হলো বেকার সে সব আমার
বৃথাই গেলো কড়ি॥

কোথা থেকে এসে ডাকে
এমন প্রবল ঢেউ ,
আমার সেটা নেইতো জানা
তোমরা জানো কেউ ?
জানি না যে কিভাবেতে
মুক্তি আমি পাবো ,
নইলে যে হায় তার সে জ্বালায়
ঠিক হারিয়ে যাবো ॥

কোলকাতা :-05-10-2016

আকাঙ্ক্ষা

“আকাঙ্ক্ষা ”
—————————————————————————
পীযূষ কান্তি দাস
—————————————————————————
ভেবেছিলেম বিশাল সাদা ক্যানভাস
ভরিয়ে দেবো স্বপ্নরঙের আলপনায় ।
ভেবেছিলেম শান্ত নির্জন এক বকুলের তলায়
নিদাঘ মধ্যাহ্নের গনগনে তাপে
ঝলসে যাওয়া মন
পাবে শান্তি আর তৃপ্তির আস্বাদন ॥

অমাবস্যার গাঢ় নিশীথে
চেয়েছিলেম হয়ে যেতে ইদ্রনাথ ।
উত্তাল সাগরের বুকে ছেঁড়াপাল আর
ভাঙাহাল নিয়ে পাড়ি দেওয়া পথে
তুমি থাকবে আমার সাথ ॥

ভেবেছিলেম -পৃথিবীর সমস্ত কলুষতা
সমস্ত নির্লজ্জতার হবে অবসান ।
সুখ -শান্তি -সাম্য -ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে
ভরে উঠবে সকলের মন ।
সময় গড়িয়ে চলে যায়
অলীক বুঝি আজ সে সব
বাস্তবের রূপ না পায় ॥

এখনো ভাবি -গেয়ে উঠি গান
“হে মানব জেগে ওঠো
বাড়িয়ে দাও সস্নেহ হাত ,
মনুষ্যত্বের দরোজা কর না বন্ধ
যাবেই কেটে সব অমারাত “॥

“যানজটে -ছটপট ”
পীযূষ কান্তি দাস

_________________________________
গিন্নী এসে বললে হেসে ,
“যাবো বাপের বাড়ি ।
লক্ষ্মীসোনা অফিস থেকে
ফিরবে তাড়াতাড়ি “।।

ফিরে বাড়ি বেরিয়ে পড়ি
সাথে বউ আর বাচ্চা ।
সময় হাতে তবু পথে
নাকাল হলাম আচ্ছা ॥

যানজটে ওই আটকে যে রই
ঘামছি দরদর ।
ভূক্তভুগি হার্টের রুগি
ভয়েই মরমর ॥

ধোঁয়াতে হায় দম আটকে যায়
শুরু হলো কাশি ।
নাকের জলে চোখের জলে
যাচ্ছি শুধু ভাসি ॥

“হে মহাপ্রাণ ফিরে এসো “

স্বামী বিবেকানন্দের একশত পঞ্চান্নতম জন্মদিনে
আমার শ্রদ্ধাঞ্জলি ॥
“হে মহাপ্রাণ এসো ফিরে ”
————————————————————————-
পীযূষ কান্তি দাস
—————————————————————————
রামকৃষ্ণের ভাবশিষ্য
বিবেকানন্দ তুমি ।
তোমায় জন্ম দিয়ে ধন্য
হলো ভারতভূমি ॥

ধরম নিয়েই হানাহানি
করতো দেশের লোক ।
“শিবজ্ঞানেই জীবসেবা ”
ফুটিয়েছিলে চোখ ॥

শাশ্বত এই বাণীটি যে
বড়ো সবার চেয়ে ।
মানুষ হল ধন্য যে গো
সেই আদর্শ পেয়ে ॥

আজকে দেখি আত্মসুখে
মানবজাতি ধায় ।
হে মহাপ্রাণ এসো ফিরে
বাঁচাও তুমি তায় ॥

শপথ করি এসো

“শপথ করি এসো ”
পীযূষ কান্তি দাস
———————————————————-
বাংলা আমার সোনার বাংলা
তোমায় ভালোবাসি ,
মেঘনা -পদ্মা দুইটি ধারা
ফোটায় মুখে হাসি ।
শীতলক্ষ্যা ব্রহ্মপুত্র
আর ওই কর্ণফুলি ,
ধানসিঁড়ি ও যমুনাকে
কেমন করে ভুলি ?

আটশো নদী দিয়ে ঘেরা
আমার বাংলাদেশ ,
আজকে দেখি দূষণরোগে
যাচ্ছে হয়ে শেষ ।
আয় না সবে শপথ করি
নিয়ে মায়ের নাম ,
দূষণমুক্ত রাখবো নদী
বাংলার শহর -গ্রাম॥

আজও

আজ ও –”
__________________________________________
পীযূষ কান্তি দাস
__________________________________________
সে কি আজো তেমনি আছে
ছিলো আগে ঠিক সে যেমন
নাকি অনেক বদলে গেছে
কাঁদে কি আর যখন -তখন ?
আজো পরে হাইহিলটা কি
রঙিন চশমায় ঢাকে দুচোখ
গলির রাস্তায় যায় সে যখন
চেয়ে কি রয় পাড়ারই লোক ?

তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরে
নাকি কি আজো পার্লারে যায়
ফেরার সময় হেঁটে ফিরে
নয়তো কি সেই বাঁধা রিকশায় ?
হুড়মুড়িয়ে ফিরে ঘরে
নাকি ফেরে রাতটি করে ,
এখনও কি ঘরে ফিরেই
সবার আগে স্নানটা সারে ?

স্নানের পরে কফির কাপে
দেয় সে চুমুক সবার আগে ,
নাকি পুজোর ঘরে ঢুকে
আগে আমার কুশল মাগে ?

সিঁদুর দিয়ে সীমন্তটা
রাঙায় আজো আগের মতন –
শাঁখা -পলায় ঠেকায় কপাল
পুজোর শাঁখটি বাজে যখন ?

শরত্ বাবুর বইটা পড়ে
শোয়ার আগে পড়তো যেমন ,
নাকি সেপাঠ চুকেই গেছে
করেনা আর মনটা কেমন ?

ছোট্ট একটা ভুল বোঝাতে
ছিটকে গেলাম আমরা দুজন ,
আগে কেমন পাখির মতো
দুজন মিলে করতাম কূজন ।।

হায়রে জীবন হায়রে জীবন
কেনো আজো হয়না মরণ ,
তবেই যদি জুড়াতো প্রাণ
সাথে পোড়া আমার এ মন ।।
কোলকাতা :-11-1-2017